Thursday, 26 Apr 2018 04:04 ঘণ্টা

অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে স্বস্তি

Share Button

অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে স্বস্তি

অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে স্বস্তি

ঢাকা : দ্বীপ জেলা ভোলা। বাংলাদেশের ভেতর যেন আরেক বাংলাদেশ। যার অপরূপ সৌন্দর্য মন কাড়ে সবার। এ দ্বীপেরই বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। এ আসনের বর্তমান এমপি আলী আজম মুকুল। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাইপো। চাচার হাত ধরেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনকে ঘিরেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকামুখী হচ্ছেন। পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে জানান দিচ্ছেন প্রার্থিতার কথা। এ আসনের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর মেজো ছেলে ড. আশিকুর রহমান শান্ত।

তবে শান্ত আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। ড. শান্ত ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই আন্দালিব রহমান পার্থ পিতার দলকে আঁকড়ে থাকলেও শান্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। এ অবস্থায় মুকুল না শান্ত- কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন? এ নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এদিকে এলাকাবাসীও আওয়ামী লীগের ওপর বিভিন্ন কারণে ক্ষুব্দ হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সেখানে ২০ দলীয় জোটের জয় নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন অশিকাংশ সচেতন মানুষ।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। কারণ হাফিজ ইব্রাহিম যখন এমপি হয়েছিলেন তখন তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে সবার মন জয় করে নিয়েছেন। যার কারণে হাফিজ ইব্রাহিমের জনপ্রিয়তা ঘরে ঘরে রয়েছে। তবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর এম আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান, কেফায়েত উল্যাহ নজীব ও মিজানুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে বর্তমানে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা এখানে নেই বললেই চলে।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ভাষাসৈনিক রেজা-এ-করিম চৌধুরী (চুন্নু মিয়া)। পরে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নেতা সিদ্দিকুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুইবার তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ ইব্রাহিম। ১/১১ সরকারের বিভিন্ন মামলার কারণে হাফিজ ইব্রাহিম ২০০৮ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। পরে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেন বিজেপির প্রার্থী ডক্টর আশিকুর রহমান শান্ত। ওই নির্বাচনে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ ২০১৪ সালে তোফায়েল আহমেদ ভোলা-১ (সদর) আসনে নির্বাচন করায় ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আলী আজম মুকুল।

আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলী আজম মুকুল বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দৌলতখান বোরহানউদ্দিনের জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আমাকে নির্বাচিত করবেন।

ড. আশিকুর রহমান শান্ত বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে ভোলা-২ আসন থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো এবং দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন থেকে সকল ধরনের দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল করবো।

এ ব্যাপারে দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইকবাল বলেন, নির্বাচনী মাঠে হাফিজ ইব্রাহিমই দলের একক প্রার্থী। অন্য কাউকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না আর কেউ আসেও না। হাফিজ ইব্রাহিমই একমাত্র নেতার যিনি দুঃসময়ে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, আমি ভোলা-২ আসনে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আছে। এখানে অন্য কোনো প্রার্থী নেই। আগামীতে কেউ আসতে চাইলে এখানকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা মেনে নিবে না। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এই এলাকার মানুষ আমাকেই বিজয়ী করবেন। ইন্‌শাআল্লাহ।

এ আসনে বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর ভোট ব্যাংক এবং আন্দালিভ রহমানের জনপ্রিয়তায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিজেপি ২০ দলীয় জোটের অন্যতম একটি শরিক দল। আগামী নির্বাচনে জোট যাকে প্রার্থী দিবে তার পক্ষেই সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা।

ভোলাতে জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। ১৯৯৬ সালে এ আসনে এককভাবে প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা কামাল উদ্দিন জাফরী। বর্তমানে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম প্রকাশ্যে না চললেও গোপনে নেতাকর্মীরা সক্রিয়। জামায়াতের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ জামায়াতের বিভিন্ন সাংগঠনিক বৈঠক থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করলেও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনের জামায়াত নেতারা।

জামায়াতের ভোলা জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির বলেন, ভোলা-২ আসনে জামায়াত নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে একক প্রার্থী দিলে তার পক্ষে কাজ করার সকল প্রস্তুতি রয়েছে জামায়াতের। জামায়াত এখানে অনেক শক্তিশালী।

এই সংবাদটি 1,010 বার পড়া হয়েছে