Monday, 05 Feb 2018 12:02 ঘণ্টা

আসছে স্বেচ্ছায় কারাবরণ হরতাল সহ ১৫ দিনের প্যাকেজ কর্মসূচি

Share Button

আসছে স্বেচ্ছায় কারাবরণ হরতাল সহ ১৫ দিনের প্যাকেজ কর্মসূচি

খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি। ওই মামলার রায়ে সংগঠনটির প্রধানের শাস্তি হলে কী কৌশল অবলম্বন করা হবে তা নিয়ে ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ অবস্থায় রয়েছে দলটি। কৌশল প্রণয়নে ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটি ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সভা হয়েছে। এ দুটি সভাতেও মামলার রায়ে শাস্তি হলে ‘কি করা যাবে’- তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

নেতাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। এখনো কোনো স্থির সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অনেকেই আন্দোলনের পথ বেছে নেয়ার পক্ষে। কারণ, যদি শাস্তি দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আপিল গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত দলীয় প্রধান বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হয়ে পড়বেন। এ জন্যই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রায়ের ব্যাপারে কী করা হতে পারে- এ নিয়ে পরামর্শ চাইবেন খালেদা জিয়া।

তবে রায়ে যদি শাস্তি দেয়া হয়েই যায়, তাহলে সেই প্রেক্ষিতে প্রাথমিক কিছু কর্মসূচির কথা চিন্তা করে রেখেছে দলটির স্থায়ী কমিটি। এই কর্মসূচিগুলো বিবেচনার জন্য দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তোলা হবে বলে জানা গেছে। নির্বাহী কমিটির সম্মতি পাওয়া গেলে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এই বৈঠকটি ফেব্রুয়ারি মাসের এক থেকে তিন তারিখের মধ্যে ডাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

নেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের একটি প্যাকেজ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হরতাল, স্বেচ্ছা কারাবরণ ইত্যাদি কর্মসূচি রয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি এ ছাড়াও রায়ে শাস্তি হলে এর বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি থাকবে। রায় হলে যেন তৎক্ষণাৎ উচ্চআদালতে আপিল আবেদন করা যায়, সেই প্রস্তুতির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

রায়ের তারিখ ঘিরে কোনো কর্মসূচি থাকছে কি না জানতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা জানাব রায় ঘোষণা হওয়ার পরে। পুরো বিষয়টা আমরা আবার জানাব রায় ঘোষণা হলেই।

শনিবার রাতে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির মনোভাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতি আজকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। আমরা মনে করি, এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য এবং সবার অংশগ্রহণে ইনক্লুসিভ ইলেকশন নষ্ট করার জন্য একটা গভীর ষড়যন্ত্র।’

দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে ‘বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
এ ব্যাপারে দলটির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, যদি অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো রায় হয়, তাহলে এরপরে যে আন্দোলন হবে- সেটা সরকার পতনের আন্দোলন হবে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করব।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা (সরকার) জেল দেবেন, দেন। ভাবছেন আমরা কান্না-কাটি করুম, না। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে আপনাদের (সরকার) পতন ঘটাব। সরকারের পতন হলেই এবার খালেদা জিয়া মুক্ত, সরকারের পতন হলে এবার বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ওই মামলার প্রধান আসামি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এ মামলার আসামি। মুদ্রা পাচারের দায়ে সাত বছর কারাদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। এ মামলাতেও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। প্রথম থেকেই বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ এই মামলাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে কেবল খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য।

এই সংবাদটি 1,013 বার পড়া হয়েছে