Wednesday, 22 Mar 2017 04:03 ঘণ্টা

ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলা!

Share Button

ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলা!

ওসিকে জমি লিখে না দেয়ায় ইয়াবা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম কামনা। বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়া মৌজার ৪৩২ খতিয়ানভুক্ত ১০২৫ দাগের ১০ শতাংশ জমি আমার বাবা মৃত গোলাম মর্তুজা আলী কিনেছিলেন। সেখানেই আমরা বসবাস করে আসছি। হঠাৎ স্থানীয় ভূমিদস্যু আবুল খায়ের আমাদের বাড়িটি দখলের পায়তারা শুরু করে। এ নিয়ে দফায় দফায় বিচার সালিসিও হয়। এ বিষয়ে গত ১৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এতে আবুল খায়ের আরো ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। পরে এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি ও খায়ের আমাদের ওপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে ওসি আমাকে বাড়িটি নামমাত্র টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেয়।’

 

তিনি বলেন, জমি বিক্রিতে রাজি না হলে বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখান ওসি। এক পর্যায়ে গতবছর ২৯ আগস্ট সকাল পৌনে ৭টার দিকে এসআই মোস্তফা কামাল তার বাসায় ঢুকে তিন পিস ইয়াবা দিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময় তার হাতব্যাগে থাকা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ তোলা ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা ও একটি সোনার চেইন নিয়ে নেয় পুলিশ। থানায় নেয়ার পর ৪৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে এমন অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ওই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেয় পুলিশ।

 

তার অভিযোগ, রিমান্ডে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ওসি বারবার আবুল খায়েরের নামে তাকে জমি লিখে দিতে বলেন। এমনকি কারাগারে থাকা অবস্থায়ও লোক পাঠিয়ে তাকে জমি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। বলা হয়, জমি লিখে দিলে এই মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হবে।

 

সুরাইয়া বলেন, তাকে জেলে পাঠানোর পরপরই তার জমিটি দখল নিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরি করেন আবুল খায়ের। ওই জমিতে প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; ওসিকে তা দেখানোর পরও তার নির্দেশে স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। এ অবস্থায় সরকারের বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনো বিচার পাচ্ছেন না তিনি।

 

তিনি বলেন, স্থানীয় একটি সূত্রে তিনি জানতে পারেন- আবুল খায়ের তার জমিতে ভবন বানিয়ে সেখানে দুটি ফ্লাট ওসি সাহেবকে দেবেন বলে চুক্তি করেছেন। তার অভিযোগ, সেজন্যই বৃদ্ধ বয়সেও ইয়াবার মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। দীর্ঘ পাঁচ মাস জেল খেটে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান সুরাইয়া।

 

কিন্তু আবুল খায়ের ও ওসির কারণে তার জমিতে যেতে পারছেন না। এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বরাবরও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বাড়ি ফিরে পাওয়াসহ একজন পুলিশ কর্মকর্তার এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই সংবাদটি 1,028 বার পড়া হয়েছে