Saturday, 26 Aug 2017 09:08 ঘণ্টা

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে

Share Button

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে

গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এ তিন ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় আওয়ামী লীগের আঁতে ঘা লেগেছে। তাদের দুর্নীতি, লুটপাট, হত্যা, গুমের অবৈধ শাসনের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। আমার দেশসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবিতে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আমার দেশ পরিবার আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আনহ আক্তার হোসেন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ নেতা শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্মসম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, কাজিম রেজা, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারি দলের নেতা ও তাদের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করে যেসব অশালীন বক্তব্য রাখছেন তাতে প্রতিদিন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়। তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্ট ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল। তার ওপর যদি আঘাত আসে তাহলে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়াবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সব স্তম্ভ ধ্বংস করেছেন, বিচার বিভাগের ওপর হাত দেবেন না। আমার দেশ-এর প্রেস অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য লেখা এবং সরকারের অপকর্ম তুলে ধরার কারণেই এ পত্রিকাটির ওপর সরকারের এত আক্রোশ। তিনি আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমানের পাশে সবাইকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে প্রতিদিন আদালত অবমাননা হচ্ছে। এখন আমরা বর্তমান সরকার ও সংসদ যে অবৈধ, এ সরকার যে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে আছে সে বিষয়ে উদ্যোগ দেখতে চাই।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে হিটলারের জার্মানীর দশা আমাদের ভোগ করতে হবে। তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমার দেশকেও মুক্ত করার আহ্বান জানান।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র আসে না। গণতন্ত্রের জন্যে আজ বিচার বিভাগকে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, নেতা সবাই আজ মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, আদালত অবমাননা করছেন। আদালত কি এসব দেখেন না? তিনি অবিলম্বে আমার দেশসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবি জানান।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শীতা আজ বেশি প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশের সাথে ট্রানজিট নিয়ে যে চুক্তি করেছে, আমার ভয় হয় সিকিমের অবস্থা এখানেও হয় কি না।

রুহুল আমীন গাজী বলেন, আদালত অবমাননার আইনটি যেনো সরকারের প্রভাবশালীদের জন্য নয়, শুধু মাহমুদুর রহমানের জন্যে। মন্ত্রীরা প্রতিদিন আদালত অবমাননামূলক বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। অথচ আদালত আজ চুপ।

এই সংবাদটি 1,032 বার পড়া হয়েছে