Saturday, 21 Jul 2018 07:07 ঘণ্টা

পর্দার আড়ালে রাজনীতির খেলা ও ইন্ডিয়ায় অসহায় আত্মসমর্পনের রাজনীতি

Share Button

পর্দার আড়ালে রাজনীতির খেলা ও ইন্ডিয়ায় অসহায় আত্মসমর্পনের রাজনীতি

    

অলিউল্লাহ নোমান
নির্বাচন সামনে আসলেই পর্দার আড়ালের খেলোয়াড়রা তৎপর হয়ে উটে। এবারো খেলোয়াড়রা তৎপর। তার কিছু লক্ষণও ইতোমধ্যেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে, এবারের তৎপরতাটি একটু ভিন্ন। সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় পর্দার আড়ালে দর কষাকষিতে ব্যস্ত সবাই। ক্ষমতার চেয়ারের নেশায় সার্বভৌমত্ব গৌন। সার্বভৌমত্ব সমর্পনের প্রতিযোগিতায় আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে। তারা ইতোমধ্যে নিজেদের সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। খোদ দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই গর্ব করে বলেছেন ‘ইন্ডিয়াকে যা দিয়েছি সারা জীবন তাদের মনে রাখতে হবে’। এমনটা বলার পরও ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রমান করে জাতি হিসাবে আমরাও আসলে পরাধীনতায় পছন্দ। তাই হয়ত: এই পরাধীনতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় যোগ হয়েছে ২০ দলীয় জোট। জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি ইতোমধ্যেই তাদের পূর্বের নীতি জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। পূর্বের নীতি ভুল পথে পরিচালিত ছিল এটাও স্বীকার করে নিয়েছে দলটি। জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষনার পর শরীক দল গুলোর কোন প্রশ্ন নেই। এতে প্রমান করে তারাও সেটা কবুল করেই জোটে আছেন। এতেই প্রমান করে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সার্বভৌমত্ব সপে দেওয়ার প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই কতটা জমে উঠেছে পর্দার আড়ালে।

এদিকে ইন্ডিয়ার বি টিম হিসাবে খ্যাত হোসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। দলটি আগা গোড়াই ইন্ডিয়ান প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত। গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ইন্ডিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার গিয়েছিলেন এরশাদের বাসায়। তখনই মনে হয়েছিল খেলোয়াড়দের তৎপরতার অংশ হিসাবেই তিনি এরশাদের বাসায় হাজির হয়েছেন। এরপরই দেখা যায় আগামীকাল অর্থাৎ ২২ জুলাই ইন্ডিয়া যাচ্ছেন এরশাদ। সেখানে তিনি ইন্ডিয়ান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের আরো কিছু কর্তার সাথে দেখা হওয়ার কথা শোনা গেছে। এই দেখা সাক্ষাতে হয়ত: ‘প্রভুরা’ তাঁকে আগামী নির্বাচনে করনীয় নিয়ে সবক দিয়ে দেবেন। কেউ ইন্ডিয়া যাচ্ছেন নিজেদের সপে দিয়ে করুণা লাভ করতে। কেউ যাচ্ছেন দাওয়াত পেয়ে।

এদিকে গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন্ডিয়ায় অসহায় আত্মসমর্পন করে নিজেদের ভুল ভ্রান্তি স্বীকার করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় দফায় ১২ জুলাই দলটির একই প্রতিনিধি দল আবারো ইন্ডিয়া সফর করেছে। তাদের সাথে শুধু যোগ হয়েছেন দলটির একজন ব্যারিস্টার আন্তর্জাতিক সম্পাদক। এই সফরের বিশেষ উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হচ্ছে, ঘরের দরজা থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে দলটির বিদেশী আইনজীবীকে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আটক হওয়ার পর দলটি একজন বিলাতি আইনজীবী নিয়োগ দেয়। বৃটিশ আইন সভার সাবেক সদস্য, উচ্চ কক্ষ লর্ড সভার সদস্য তিনি। তাঁকে বাংলাদেশ সরকার ভিসা দেয়নি। তাই ইন্ডিয়া গিয়ে লর্ড কার্লাইল বেগম খালেদা জিয়ার মামলা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। সেখানে ইন্ডিয়ান সাংবাদিকদের মামলার বিষয় বুঝিয়ে বলার জন্যই তিনি যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই গলা ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বয়ান অনুযায়ী লর্ড সভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ইন্ডিয়ান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কেউ তাঁকে হ্যালো পর্যন্ত করেনি। বিমানবন্দরে একজন কর্মকর্তা তাঁকে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ফিরতি ফ্লাইটে উঠিয়ে দিয়েছেন। মোট ৪ সদস্যের টিম লর্ড কার্লাইলকে সেখানে সঙ্গ দেওয়ার কথা ছিল। তারা ইন্ডিয়ায় ঢুকার অনুমতি পেলেও লর্ড কার্লাইল অনুমতি পাননি। প্রশ্ন উঠেছে, ইন্ডিয়ায় গিয়ে কেন সংবাদ সম্মেলন করতে হবে তাঁকে। সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে তো বৃটেনে বসেও করতে পারতেন!

অপরদিকে ইন্ডিয়ার পরিক্ষিত সৈনিক আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম গতকাল ভবিষ্যত সরকারের একটি রুপ রেখা দিয়েছেন। তাদের ভাষায় জাতীয় ঐক্য নামে জোট গঠনের উদ্যোগ চলছে। সেই জোট ক্ষমতায় গেলে ভবিষ্যৎ সরকার প্রধান হবেন ড. কামাল হোসেন। জোটের প্রধান হবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনাকেও জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বান থেকে অনুমান করা যায়, নির্বাচনকালীন সরকারের নামে যা গঠিত হবে, সেখানেও তাদের জায়গা দিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন হলে আশ্চার্য্য হওয়ার কিছু থাকবে না। কারন শেখ হাসিনা এবং তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী আনুগত্যের কথা অকপটে বলেছেন ২০১৬ সালের জুন মাসে। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকের পর বের হয়েই তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন তাঁর আনুগত্য হল শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে বিতাড়িত হয়ে নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন না। তবে জামায়াতে ইসলামীর মালিকানায় পরিচালিত দিগন্ত টেলিভিশনে নিয়মিত একটি টক শো উপস্থাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। সেখানে থেকে তিনি নিয়মিত সম্মানিও নিয়েছেন। জোটের প্রশ্ন আসলে বলেন, জামায়াতে ইসলামী যেখানে রয়েছে সেখানে তিনি যাবেন না।

পাঠক ষ্মরণে থাকার কথা। ২০১৬ সালে একবার জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তখন বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতের ফলোআপ হিসাবে আবদুল কাদের সিদ্দিকী দেখা করেন ২০ দলীয় জোটের নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। সাক্ষাতের পর বের হয়ে তিনি বলেছিলেন- ‘আমি জামায়াতে সঙ্গে রাজনীতি করব না। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি নিয়ে আমি মরতে চাই।’ আরো বলেছিলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে যাবেন না তিনি। বাকী যা বলেছিলেন সেগুলো এখানে নাই বা উল্লেখ করলাম। যিনি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি নিয়ে মরতে চান, তাঁর কাছে কি গণতন্ত্রিক আচরণ আশা করা যায়!

আবদুল কাদের সিদ্দিকীর পাশাপাশি গতকাল একই দিনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য হতে হবে ভারসাম্যের ভিত্তিতে। এই দুই নেতার একই দিনের বক্তব্যে কিছুটা হলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় জাতীয় ঐক্যের নামে কি হতে যাচ্ছে। ভারসাম্য বলতে তিনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন সেটার ব্যাখ্যা দেননি। তবে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় ১৫ আসন যে দলটি পেয়েছে জোট সেই দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। ছোট দলের নেতাও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেই উদাহরণও তিনি দিয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না আপাদ মস্তক একজন রাজনীতিক। তাতে কোন সন্দেহ নাই। ঢাকসুর সাবেক ভিপি ছিলেন তিনি। এরপর থেকে রাজনীতিতে নানা ঘাটের পানি পান করে ঠাই নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগে। সেখানেও সুবিধা করতে না পেরে নানা দৌড় ঝাপের পর নাগরিক ঐক্যের ব্যানার ধারণ করেছেন। ভোটের অঙ্কে তাঁর কতটা ভাগ রয়েছে সেটা এখনই অনুমান করা যাবে না। কোন একটা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দেখা যাবে ভোটের অঙ্কে তাঁর ভাগ কতটা যোগ হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সিদ্দিকী এক সময় আওয়ামী লীগ করতেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে বিতাড়িত হয়েছেন বহু আগেই। পরে নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। রাজনৈতিক দল গঠনের সময়ও তাঁর অনুগত্যের দল আওয়ামী লীগের গুন্ডা বাহিনীর দ্বারা তাড়া খেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সষ্টিটিউট থেকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন না। তবে জামায়াতে ইসলামীর মালিকানায় পরিচালিত দিগন্ত টেলিভিশনে নিয়মিত একটি টক শো উপস্থাপনা করেছেন দীর্ঘদিন। সেখানে থেকে তিনি নিয়মিত সম্মানিও নিয়েছেন। জোটের প্রশ্ন আসলে বলেন, জামায়াতে ইসলামী যেখানে রয়েছে সেখানে তিনি যাবেন না।

জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে আরো যে দু/তিনটি দলের কথা বলা হয়, তারা হলেন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ। তিনিও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। বিএনপি থেকে তাড়া খেয়ে বের হয়ে বিকল্পধারা গঠন করেছেন।

ড. কামাল হোসেন ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা। তিনিও নিজ দল থেকে তাড়া খেয়েছেন। গঠন করেছেন গণফোরাম।

ভঙ্গুর জাসদের একাংশের নেতা আ স ম রব। নিজের আসনেও কত ভোট পাবেন সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব দলছুট নেতারা জাতীয় ঐক্যের নামে কোথায় ভীড় করবেন। সেটা কি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথাকথিত নির্বাচনকালীন সরকারে! নাকি ২০ দলীয় জোটের সাথে? ২০ দলীয় জোটের সাথে যোগ দিতে আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের আপত্তি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সঙ্গে জাসদ রব-এরও একই আপত্তির কথা শোনা যায়।

অপরদিকে বিএনপি প্রতিনিধি দলের ইন্ডিয়া সফরের পর খবর চাউড় হয়েছিল জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে। উড়ো খবর গুলোতে বলা হয়েছিল বিএনপিকে বলা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে নির্বাচনে গিয়ে প্রমান করতে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ইন্ডিয়ান পরিক্ষীত সৈনিকদেরও একই দাবী।

অন্যদিকে এই তৎপরতার মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে আমেরিকান একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করেছে সরকার। সেই চুক্তির আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালিতে তাদেরকে ৫হাজার ৬০০ একার উপকূলীয় জমি দেওয়া হবে। পরপরই দখলদার প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার। তাঁকে জানানো হয়, চট্রগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার একর জমি। দখলদার সরকারের শেষ বছরে ইন্ডিয়া ও আমেরিকা তাদের দাবী আদায় করে নিচ্ছে।

শুধু কি তাই! গত মাসে ইন্ডিয়ান পত্রিকায় খবর বের হয়েছে দেশটির রেমিটেন্স অর্থাৎ বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের তালিকায় বাংলাদেশ হচ্ছে চতুর্থ। তাদের লোকরা বাংলাদেশে কাজ করে বৈধ পথে যে টাকা পাঠায় সেটাই উঠে এসেছে এই হিসাবে। তবে বৈধ পথের ৩ গুন বেশি জায় অবৈধ পথে। ইন্ডিয়ান লোকজন বৈধ-অবৈধ অবস্থান করে বাংলাদেশে চাকুরি করছে। ১০ লাখের বেশি অবৈধ ইন্ডিয়ান চাকুরি করে বাংলাদেশে। অথচ দেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত তরুণ বেকার চাকুরির সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তা দেখে ছো বেলার একটি ছড়া মনে পড়ছে। ছোট বেলা সবুজ সাথী বইয়ে পড়েছিলাম-
খোকন খোকন ডাক পাড়ি,
খোকন মোদের কার বাড়ি?
আয়রে খোকন ঘরে আয়,
দুধমাখা ভাত কাকে কায়।
আমাদের দেশে চাকুরি নামক সোনার হরিণটি ইন্ডিয়ান কাকে খাচ্ছে। অথচ দেশের শিক্ষিত খোকনরা মায়ের সোনা গহনা, হালের বলদ, দাদার রেখে যাওয়া জমি বিক্রি করে বিদেশে যাচ্ছে চাকুরির সন্ধানে।

সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন করছে ইন্ডিয়ান হানাদার বিএসএফ। এছাড়া তিস্তা থেকে শুরু করে ছোট বড় সব নদী থেকে উজানে পানি প্রত্যাহার করছে ইন্ডিয়া। এতে শুকনা মৌসুমে নদী গুলো শুকিয়ে যায়। বর্ষায় ইন্ডিয়া যখন বাঁধ গুলো খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানি ভাটিতে ছেড়ে দেয় তখন বণ্যায় তলিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। চলতি বছরেও সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বণ্যা হয়েছে ইন্ডিয়ার অতিরিক্ত পানির চাপে। গত বছরও সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকায় বোরো ফসল তুলতে পারেনি কৃষক। ইন্ডিয়া উজানে জমিয়ে রাখা অতিরিক্ত পানি হঠাৎ ছেড়ে দিয়ে দিলে তলিয়ে যায় হাওড় অঞ্চল। এতে ঢুবে যায় বোরো ফসল।

ইন্ডিয়ান সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে অবাধে। বাংলাদেশের সিনেমা হল গুলো এখন ইন্ডিয়ান তৈরি সিনেমান উম্মুক্ত। এসব বিষয় নিয়ে কারো কোন শব্দ নেই। রাজনীতি আটকে আছে মামলার বেড়াজালে। মামলা প্রত্যহার, মুক্তির দাবীতে রাজনীতি বন্দি। ইন্ডিয়ার কৃপা লাভের আশায় রাজনৈতিক দল গুলো এসব আগ্রাসন নিয়ে নীরব।
ইন্ডিয়ার কৃপা লাভে কারো আপত্তি থাকবে না। যদি জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে, জাতীয় স্বার্থে সম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে উজার করে দেয়ার পালা চলছে এবং রাজনীতিকদের এনিয়ে যে নীরবতা তাতে কি বলা যায় জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে! ইন্ডিয়ানদের সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের নীরব করে দিতে পারা।
পর্দার আড়ালের আরেকটি তৎপরতা লক্ষণীয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে পর্দার আড়ালের খেলোয়াড়রা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। মামলায় ইতোমধ্যে কারাদন্ড হয়ে কারাগারে ৬ মাস অতিক্রম করেছে। কারাগারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দলটির সিনিয়র নেতারা বিশ্বাসই করতেন না চেয়ারপার্সনকে জেলে নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিশ্বাস ছিল কারাগারে নিলেও সপ্তাহ খানেকের বেশি তাঁকে আটক রাখতে পারবে না সরকার। তাদের সেই চিন্তা থেকে সরে আসতে সময় লেগেছে অনেক।
ইতোমধ্যে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগে শুনানী শুরু হয়ে গেছে। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাও দিয়েছে শেখ হাসিনা অনুগত আপিল বিভাগ। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কারাদন্ড চুড়ান্ত হলে তিনি আইনি দৃষ্টিতে আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এছাড়া বিএনপি’র গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল ফৌজদারি বা দুর্নীতির অভিযোগে দন্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবে না। যদিও সর্বশেষ কাউন্সিলের অনুমোদনে এই ধারাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে সরকার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল গুলোর বিধি বিধানে এরকম একটি ধারা সংযোজন করবে। এটা চুড়ান্ত হলে দলের নেতৃত্বে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও থাকতে পারবে না। তখন পর্দার আড়ালের খেলোয়াররা রাজনীতিকে কোথায় নিয়ে ঠেকায় সেটা দেখার অপেক্ষা করতে হবে আর কিছুদিন। যদিও আবদুল কাদের সিদ্দিকীর জাতীয় ঐক্যের সরকারের রুপ রেখায় এবিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিত রয়েছে।
লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত।

এই সংবাদটি 1,009 বার পড়া হয়েছে