Tuesday, 07 Nov 2017 01:11 ঘণ্টা

পাগলায় তাবিজ দেওয়ার নামে মনোয়ারের ভন্ডামি! 

Share Button

পাগলায় তাবিজ দেওয়ার নামে মনোয়ারের ভন্ডামি! 

সুনামগঞ্জের দক্ষিন সুনামগঞ্জ থানাধীন পাগলা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন’র ছেলে মনোয়ার হোসেন (৪৫) নিজেকে পীর পরিচয় দিয়ে জ্বীন-ভূতের ভয় দেখিয়ে এলাকার সহজ-সরল লোকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ।

একাধিক সূত্র ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবত ভন্ড পীর পরিচয়ে ভূয়া তাবিজ-কবজ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সেই ভন্ড পীর একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে লোক ঠকায়। কোনো সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ পীরের কাছে গেলে মনে হয় সে নাকি সত্যিকারের পীর। তারও আবার একটি বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনী দ্বারা বিভিন্ন মাজার পরিদর্শন করে মানুষদের আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন দূর-দুরান্ত থেকে আগত লোকজন তার প্রচারণা শুনে আসেন, তখনই শুরু হয় তার মানুষদের আকৃষ্ট করার ভন্ডামি।

সূত্র আরো জানায়, তার এই ভন্ডামির কাছে জিম্মি হয়ে আছে স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। ভন্ড মনোয়ারের কাজ একটাই দোয়া-তদবির-সদকার নামে সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা। সে জ্বীন তাড়ানোর নামে বিবাহিত মহিলাদের শ্লিলতাহানির চেষ্টা চালায়। বাদ পড়েনি উঠতি বয়সী তরুনীরাও। লোকজ্জার ভয়ে অনেকে তা প্রকাশ করে না।

অভিযোগ উঠেছে, কথিত চালান দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে; রামচান্ডালের খাল, তুড়োক গাছের ছাল, মন্তরামের ছাই, বানরের গু, হড়তকীর চাল, মরা মানুষের মাথার খুলি, মৃত ভাবনের মাথার মন্ডু, পেচাঁর কলিজা, চুড়ই পাখির মগজ, মনের গুটা, মানুষের রক্ত, শিয়ালের বিষ্টা, মনমনির গোটা, জিনের তৈল, খাঁটি মধু, শ্বশানের মাটি, জামির গাছের কাঁঠা, সাত ঘাটের পানি, সাত পুকুরের পানি, নদীর চাকের পানি, আওয়া পাতিল, সাত গাছের ফুল, সাত গাছের মুল, মন গাছের কাঁঠা, পারদ’র বুটা, ভুজপাতা-কালোপাতা, তুলসি গাছের ফুল, তুলসি গাছের মুল, জবা গাছের ফুল। কাম সিন্দুর, জবা সিন্দুর, পুয়াতি সিন্দুর, কালির মাতার সিন্দুর, কালির পায়ের নিচের মাটি, কালির ভোগের গটি। সাদা লজ্বাবতি, পুরুষ লজ্বাবতি গাছের ডাল, বাবুল গাছের ছাল, নতুন কবরে মাটি, শিং মাছের কাঁঠা,কালো মোরগীর ডিম, কলা গাছে আগপাতা, নিশাধর, মুহিনী, স্ত্রীমহিনী, পুরুষমুহিনী,স্বামী পাগুলিয়া, অষ্টগন্ধা, দেবদারু, কন্তুরী, সজারুর কাঠা, স্বেত সরিসা, সতুল কালি, জাফরান কালি,মিস্ক কালি, আম্বর কালি, জিনের পেল, ডানির পা। রুহেখত, করকেরি, সোনামাছি, ঘরব্যাঙ্গ, কোনো ব্যাঙ্গ, ভেড়া ছাগলের ছাল, কালো বিড়ালের লাম্বা দাত আর খাল, সাপের খোলস, ছানছড়ার মগজ, হরিনের চামড়া, কালো বিড়ালের চাপড়া, রুপার তখতি, সাদা বর্তন কামারালোর পানি, স্বর্ণকারের পানি, সাতকুন্ডলীর পানি, শনি মঙ্গল-বারে মরার মানুষের কনিষ্ট আঙ্গুল, শ্বশানের ছাড়, কামসিন্দুর। লাল আসনের কাপড় কালিপুঁজা-ভোগন ছড়িপুজার কালো গরুর দুধ, মমবাতি, আগরবাতি এসব সংগ্রহ করে আনতে বলে সে।

নিরীহ লোকজন এসব জিনিষ আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে শুরু হয় তার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল। তাহলে সে সংগ্রহ করে দিবে বলে লোকদের কাছে দাবী করে মোটা অংকের টাকা। এই ভন্ড পীর নামক প্রতারকের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগিরা।

এই সংবাদটি 1,043 বার পড়া হয়েছে