Thursday, 11 Feb 2016 05:02 ঘণ্টা

পুলিশ হচ্ছে সংবাদপত্রের শিরোনাম

Share Button

পুলিশ হচ্ছে সংবাদপত্রের শিরোনাম

police-academy-1প্রথম বাংলা নিউজ : গত কয়েক দিন থেকে সারা দেশের প্রায় সব কয়টি পত্রিকায় পুলিশের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে বিভিন্ন রকম সংবাদ পড়ে আসছি। চুখ খুললেই পুলিশ এ অপরাধ করেছে ও অপরাধ করছে। এক কথায় পুলিশ তিল থেকে তাল করলেই হচ্ছে সংবাদপত্রের শিরোনাম। এটাকি আমাদের কাম্য। কারন যারা এসব অপরাধ গুলো খুবই গুরুত্ব¡ দিয়ে প্রকাশ করেন তাদের পত্রিকায় তারা মনে করেন পুলিশ মানুষ নয় তারা কোন ভিন্ন গ্রহের কোন প্রাণী বা ফেরোস্তা। তারা ভুল করতে পারেনা। তারা ভূল করবে কেন? তাদের উদ্দেশ্য করে আজ কয়েকটি কথা বলতে হচ্ছে। পুলিশ একটি বাহিনীর নাম তারা দেশের আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে দিনরাত রোদ বৃষ্টি উপপেক্ষা করে পরিশ্রম করে তাদের সন্তান স্বজনদের কথাভুলে থাকতে হয়। এমন পুলিশ এদেশে রয়েছে যারা নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত আপনজনের মুখটিও একবার দেখার সুভাগ্য তাদের জীবনে হয়নি, কিংবা তার সদ্যজাত সন্তানের মুখটা হয়তো সে আজও দেখতে পায়নি। মানুষ বলতেই ভুল করে পুলিশও ভূল করতে পারে কারণ ভুল করা মানুষের কাজ কোন ফেরেস্তার কাজ নয়। আর মানুষই যখন দেশের আইনশৃংখলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনীতে যোগদান করে সে রাতারাতি হয়ে উঠে পুলিশ। এ বাহিনীতে রয়েছে বিভিন্ন স্থর আর বিভিন্ন স্থরে রয়েছে মানুষ তাই তাদের কর্মক্ষেত্রে যে কোন ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। যেদিন দেশের পুলিশ আর কোন ভূল করবে না সেদিন মনে করতে হবে যে আজ আর মানবজাতী নেই পুলিশ বাহিনীতে তারা সব ফেরেস্তা আকাশ থেকে আসছে। অপর দিকে পুলিশ যেসব অপরাধ করে তার বেশীর ভাগই তাদের দিয়ে করানো হয়। তারা নিজে থেকে খুব কমই অপরাধ করে। একজন পুলিশ সদস্য কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত হতে পারে রাজনৈতীক নেতা, আমলা কিংবা কর্মী দ্বারা। এসব লোকের মন রক্ষা কিংবা চাকুরী রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক অপরাধ করে বসে পুলিশ বেচারা যে অপরাধটি করালো সে রয়ে গেলো আড়ালে আর বেচারা পুলিশ ফেঁসে গেলো অপরাধী হিসাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখলে এসব অপরাধের গোড়ায় পৌঁছা সম্ভব হয়। একজন পুলিশ সে শয়তানের ধোঁকায় কিংবা মানব রুপী দানবদের কথায় ভূল পথে পা বাড়াতে পারে, কিংবা তাদের দৈনন্দিন চাহিদার কথা চিন্তা করে অপরাধের সাথে জড়াতে পারে কিন্তু সব পুলিশ অপরাধী নয় একটি পুলিশ বাহিনীতে ১শত কিংবা ১ হাজার মানুষ নেই মনে রাখতে হবে তাদের পরিমান প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ আর ভুল করে হাতে গুনা কয়েকজন তাই বলে সব পুলিশ অপরাধী নয়। একটি পরিবারে যখন একজন পিতার ৫টি সন্তান থাকে তারা বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকে তখন পিতা হয়ে যেমন জানতে পারে না তার কোন ছেলে কোন অপরাধ করে তেমনি পুলিশ বাহিনীতে এমন হওয়াটা অসাভাবিক নয়। একটি জেলায় একজন এসপি আর কয়েকজন এএসপি থাকে তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় জেলার কয়েকটি থানা, থানা গুলি জেলা শহর থেকে অনেক দূরে হয় তাই যেমন একজন এসপি কিংবা কয়েকজন এএসপি থানা গুলির খবর নিতে পারেনা, তাদের নির্ভর করতে হয় একজন ওসির উপর আর ওসি নির্ভর করতে হয় তার থানায় কর্মরত এসআই, এএসআই এর উপর, আর তাদের গুটি কয়েকজনকে নিয়ন্ত্রন করতে হয় থানার প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ মানুষকে, কিন্তু দেড় লক্ষ মানুষের জন্য কতজন পুলিশ কাজ করবে মাত্র ২০ কিংবা ৩০জন কিংবা ৫০জন। তাই পুলিশ এতা লোক কে কি করে নিয়ন্ত্রন করবে সে বিষয়টি দেখা উচিত। এবার একটি স্কুলের দিকে মন দেওয়া যাক একটি ক্লাশে শিক্ষক থাকে ১ জন ছাত্র সংখ্যা ৫০ জন, এবার শিক্ষক ক্লাশ নিচ্ছেন এখন শিক্ষক যখন ব্লাক বোর্ডে লিখতেছেন তিনি কি বুঝতে পারবেন তার পিছনে তার ছাত্ররা কি দুষ্টামি করছে। কিংবা কি অপরাধ করছে, তার জন্য প্রয়োজন ৫০ জনের জন্য ১০২ টি চুখের সব ছাত্র কি করছে দেখার জন্য তাই ক্লাশে ভূল করলে যেমন সব ছাত্রের অপরাধ শিক্ষকের চুখে পড়েনা তেমনি পুলিশ বাহিনীতে করা কয়েকজন সদস্যর অপরাধ সব অফিসারের চুখে পড়েনা, তাই কিছু পুলিশ ভূল করাটাই স্বভাবিক বিষয়। বাংলাদেশের সব সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকুরীকালীন সময়সূচী মাত্র ৮ ঘন্টা আর পুলিশ বাহিনীতে যারা চাকুরী করে তাদের কর্মসূচী ২৪ ঘন্টা হয়ে থাকে কোন কোন সময়। কিন্তু তাদের বেতন দেওয়া হয় মাত্র ৮ ঘন্টার বাকি সময় বিনাশ্রম নিয়েই পালন করতে হয়। থানায় যখন আপনি মামলা দায়ের করেন তখন কি পুলিশ কে মামলা তদন্তের জন্য সরকার নির্ধারিত কোন পারিশ্রমিক দেয় বিষয়টি কি আপনি জানতে চান। একই দিনে একটি থানায় ১০ টি অপরাধ সংগঠিত হলো আর পুলিশের জন্য প্রত্যক থানায় একটি গাড়ি বরাদ্ধ করা হয়। এবার বলেন ১০টি অপরাধ স্পটে পুলিশ পৌঁছাবে কি করে। উত্তরটা আপনার কাছেই রইলো। থানায় একটি গাড়ির জন্য জালানি তেল বরাদ্ব হয় সর্বসাকুল্য দিনে ১০ লিটার এখন একটি থানার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত যেতে তেলের প্রয়োজন ৪০ লিটার বাকি তেল আসবে কোথায় থেকে। যদিও তার ঐ দিনের ৮ ঘন্টার বেতনের ৫ টাকা দিয়ে ৬ লিটার তেল কিনে ফেলে তা হলে তার সন্তানরা খাবে কি আর সেই বা খাবে কি, সে কি মানুষ নয়। এ জন্য কিছু অপরাধ হয়ে থাকে। এবার আসবেন রেশনের কথা, সরকার যে রেশন দেয় তাদের জন্য তার একটি পরিবারে জন্য ১ সপ্তাহের বাজার হয় না মাস চলবে কি করে। এ প্রসঙ্গের একটি আগে আরেকটি বিষয় খোলাসা করা দরকার একটি থানায় যখন একজন ওসি নিয়োগ করা হয় তখন ঐ থানার ক্ষমতাসিনদের খুশি করা ফরজ হয়ে দাড়ার ওসির জন্য, সে যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন? এ সময় বেচারা ওসিকে কি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাহা যে নিজ চুখে দেখেছে তারা বুঝেছে। এবার প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কি পুলিশ অপরাধ করে সে সব টাকা পয়সা কামাবে, আর মানুষকে নির্যাতন নিপিড়ন করবে? না। সব পুলিশ এসব অপরাধ করেনা। এমন দৃষ্টান্ত পুলিশ বাহিনীতে আছে যে পুলিশ জিবনে তার বেতনের টাকার বাইরে একটা টাকাও ঘুষ গ্রহণ করেনি। তাকে নিয়েতো সমাজপাতিরা কোন সুরগুল করেন নি। যে ঐ থানার পুলিশ বেচারাসহ তার পরিবার না খেয়ে মরতে বসছে একটু সাহায্য করি। সে সময় কোথায় হারায় আপনার আমার বিবেক? এখন সব শেষে হচ্ছে আপনি যেমন মানুষ আপনার যেমন পরিবার পরিজন আছেন তেমনি পুলিশ বাহিনীতে যারা কর্মরত তাদেরও পরিবার পরিজন আছে, আপনি যেমন নিজে না খেয়ে আপনার স্বজনদের মুখে হাসি ফোঁটাতে চান তেমনি তারাও চায় তাই তাদের করা সামান্য ভূলগুলিকে বড় করেনা দেখে তাদের সহযোগীতা করুন যাতে তারা ইচ্ছাকৃত অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারে। কিংবা আপনার কাছে তার কাজটি অপরাধ মনে হলে গোপনে তার উর্ধ্বত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন, এখন সব স্থানে আইজিপি থেকে শুরু করে ওসির নাম্বারও দেওয়া আছে। কারণ পুলিশ মানুষ তাদের দূষ গুন থাকতে পারে তাদের শুধরানোর সুযোগ দিন। সমালোচনা করুন কিন্তু প্রতিংসা পরায়ন হয়ে নয়। সে তো আপনারই সন্তান কিংবা ভাই কিংবা কোন আপনজন হতে পারে।

এই সংবাদটি 1,045 বার পড়া হয়েছে