Monday, 23 Jul 2018 04:07 ঘণ্টা

মাহুমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করে ৭১ এর চেতনাকে কবর দিলো ছাত্রলীগ

Share Button

মাহুমুদুর রহমানকে রক্তাক্ত করে ৭১ এর চেতনাকে কবর দিলো ছাত্রলীগ

-রাকেশ রহমান ( লেখক ও কলামিষ্ট )
আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।বতর্মান বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে একজনই সিংহ রয়েছে যাকে রক্তাক্ত করে ৭১ এর পাক হানাদার বাহিনীদের হার মানালো শেখ হাসিনা।

কুষ্টিয়ায় রক্তাক্ত আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। দুপুর ১টা থেকে তিনি ছিলেন কুষ্টিয়া আদালতে অবরুদ্ধ। বার বার প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি।উল্টো প্রশাসনের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা মাহমুদুর রহমানকে হত্যার জন্য হামলা চালায়।কোর্ট এলাকা অবস্থানকারি স্থানীয় কিছু জনগন সাহসী ভূমিকা নিয়ে মজলুম এ সম্পাদককে উদ্ধার করেন।আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
এটা কোন স্বাধীন দেশের নমুনা???
এটা কোন সভ্য দেশের উদাহরন ???
এটা কি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা???

চেতনা চেতনা চেতনা বলে ভারতের ইশারায় ক্ষমতায় থাকতে অবৈধ্য সরকার বহু কাজ সাধন করেছেন।
একটা দেশের বুদ্ধিজীবি মহলকে অবৈধ্য ভাবে আটক করে জেল খাটিয়ে, হত্যার হুমকি দিয়ে দেশ ত্যাগ করিয়েও থামেননি বরং বুদ্ধিজীবি মহলকে রক্তাক্ত করতেও পিছ পা হলেন না ।

দীর্ঘ ১০ বছর শাষন করে গোটা জাতীকে দেউলিয়া করে ফেলেছে এই সরকার ।নতুন প্রজন্মকে পরিক্ষার আগে প্রশ্নপত্র হাতে দিয়ে ধ্বংসের শেষ সীমানায় দাড় করিয়ে দিয়েছে।
দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিতে ধ্বংসের দাড় পান্তে নিয়ে এসেছে।
এই প্রধান প্রধান কথা গুলো বলবার এবং লিখবার যারা আছেন তাদের একের পর একজনকে আক্রমন করে বলার বা লিখার প্রতিরোধ করে চলেছে ।

দেশটা আমাদের সবার তাই এই দেশের ভালো মন্দ চিন্তা করার ও কিছু করার দায়িত্ব আমাদের সবার। দেশটার জন্ম হয়েছে ৪৮বছর ( প্রায় ) । কিন্তু এখনও কি আমরা একে অপরের হিংসা, ভেদাভেদ, দণ্ডতা থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি ? আমরা কি হতে পারবো না মালয়েশিয়া অথবা সিঙ্গাপুরের মত একটি দেশ ? আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কি বন্ধ করা যাবে না ? আমরা কি ৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হতে পারবো না ? আরেকবার অসাধু ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের পিছনে ফেলে দেশ প্রেমিক, আদর্শবান রাজনীতিবিদদের সামনে নিয়ে এসে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে কি আমরা পারবো না ? যে দেশে থাকবে না ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের দণ্ড, থাকবে না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

আমরা পারবো, আমাদের পারতেই হবে,কারন আমাদের প্রবীণ প্রজন্মরা যুদ্ধো করে দেশ স্বাধীন করেছে,আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, তাই আমাদের জানতে হবে ৭১’ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি ছিল? এক কথায় বলতে গেলে চেতনাটি হচ্ছে নিজের জীবন থেকে অন্যের জীবনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া । অর্থাৎ নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানো , নিজের শান্তিতে নয় বরং অন্যের শান্তিতে তৃপ্তি পাওয়া ।

যেমন- ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে মানুষ নিজে না খেয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের খাইয়েছিল, নিজে না ঘুমিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের ঘুমানোর জন্য জায়গা দিয়েছিলো, নিজেদের জীবন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা করেছিল আর এই হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সবাইকে আপন করে নিয়ে মাকে অর্থাৎ দেশকে আর সন্তানকে অর্থাৎ জাতিকে রক্ষা করতে ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতিকে জাগ্রত করতে হবে ।

জানিনা কবে আমাদের দেশে গনতন্ত্র আসবে ???
জানিনা কবে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামবো???
ধীরে ধীরে কষ্ট পেয়ে মরার চেয়ে আসুন একবার প্রতিবাদ করে নিজের অধিকার ফিরিয়ে এনে নিজেদের দেশ নিজেদের মতন করে গড়ে তুলি।
জানি বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন তারপরেও আমাদের প্রতিবাদ ছাড়া আন্দোলন ছাড়া কোন মুক্তি মিলবে না ।
আসুন সবাই মিলে আরেক বার ৭১ এর চেতনায় গর্জে উঠি ভারতীয় শক্তির হাত থেকে দেশ রক্ষায় ।

এই সংবাদটি 1,009 বার পড়া হয়েছে