Wednesday, 30 Aug 2017 10:08 ঘণ্টা

শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসীর নাম করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অবৈধ পশুর হাট

Share Button

শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসীর নাম করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অবৈধ পশুর হাট

94369মুসলিম উম্মার ২য় বৃহত্তম উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। আগামী ২ সেপ্টম্বের ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত হবে। ঈদকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বৈধ পশুর হাটের পাশাপাশি বসেছে অবৈধ পশুর হাটও। প্রত্যেক বছর মাঠের উন্নয়নের নাম করে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে (শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ও  পশুর হাট বসানো হয়। এবারও সেই পরিকল্পনা অনুসারে অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে। প্রতিবছর মাঠের উন্নয়নের নামে বসে কোরবানির পশুর অবৈধ হাট। এবার মাঠের উন্নয়ন নামে নয়, ‘এলাকাবাসী আয়োজক’ এমন তোরণ সাঁটিয়ে শুরু করা হয়েছে কোরবানির পশুর অবৈধ হাট।
সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকার খেলার মাঠটি নিয়ে এভাবেই চলছে বছর বছর কোটি কোটি টাকা রোজগারের খেলা। ২০০৯ সালে সদর উপজেলা খেলার মাঠ ঘোষণার পরও একটি মৌসুমের জন্য আয়োজন করা হয়নি কোনো খেলা। কিন্তু প্রতিবছর কোরবানির পশুর হাট ও মেলা বসিয়ে মাঠের উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে কোটি কোটি টাকা।
হাটের আয়োজক হিসেবে ‘এলাকাবাসী’ নাম থাকলেও গত শনিবার শাহী ঈদগাহ এলাকার হয়ে কথা বলার কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটের পেছনে রয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
আশফাক আহমদ মাঠ উন্নয়ন কমিটিরও আহ্বায়ক। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর পশুর হাট বসিয়ে কোটি কোটি টাকার একটি তহবিল গড়ার নামে লুটপাট হচ্ছে। এবার মাঠের উন্নয়ন নয়, এলাকাবাসীর নামে হাট বসিয়ে লুটপাটের পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, শাহী ঈদগাহ এলাকার সদর উপজেলা খেলার মাঠে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দ। এই খেলার মাঠকে মিনি স্টেডিয়ামে উন্নীত করণের জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর আওতায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে একতলা বিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন ভবন, পাবলিক টয়লেট, গ্যালারি এবং আধুনিক ফুটবল গোলপোস্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা। গত (২০ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহীন ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর প্রতিনিধি শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠটি পরিদর্শন করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ বলেন, অন্য বছর মাঠের উন্নয়নের স্বার্থে কোরবানির পশুর হাট বসানো হলেও এবার স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু করায় হাট বসানোর কোনো ইচ্ছা ছিল না। পাশের একটি গলির ভেতর পশুর হাট দেওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে মৌখিকভাবে হাট বসানোর কথা বলেছে। এখান থেকে যে টাকা পাওয়া যাবে, সেগুলো মাঠের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হবে। এর আগে গত আট বছরে হাট ও মেলার নামে অর্জিত টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, এমন প্রশ্ন তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাত আলী রফিক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এর আগে বছর বছর হাট দিয়ে যারা আর্থিক ফায়দা লুটেছে, তারাই এবার জড়িত।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, নগরের সোবহানীঘাট, চালিবন্দর, ঝালোপাড়া ও কদমতলী এলাকায় চারটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানো যাবে। উপজেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শহরতলিতে তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, শাহী ঈদগাহে আয়োজন করা হাটটি অবৈধ।
এই বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জেদান আল মুসা জানান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, বৈধ পশুর হাট থেকে পশু ক্রয় করার জন্য। অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদের অভিযান চালানো হবে।

এই সংবাদটি 1,388 বার পড়া হয়েছে