Sunday, 24 Jan 2016 09:01 ঘণ্টা

সিলেটের আব্দুল আলীর মানবতার মূল্যায়ন হবে কি দিয়ে

Share Button

সিলেটের আব্দুল আলীর মানবতার মূল্যায়ন হবে কি দিয়ে

manপ্রথম বাংলা নিউজ: মানুষ মানুষের জন্য কথাটি প্রমান করলেন সিলেটের আব্দুল আলী পেশায় একজন ব্যবসায়ী বাড়ী সিলেটের শাবি এলাকায়, গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসা থেকে বাসায় ফিরছিলেন আব্দুল আলী, এমন সময় তিনি দেখেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি প্রাইভেটকার এলোমেলোভাবে চলছে। একপর্যায়ে ওই প্রাইভেটকার সড়কের পাশে থাকা এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর প্রাইভেট কারটি আরো দ্রুতগতিতে পাশে থাকা কলেজের শিক আতাউর রহমানসহ তার মেয়েকে গাছের সঙ্গে চাপা দেয়। এতে ওই শিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহত হন তার মেয়ে ছাত্রী রাহিবা। এসময় লাশ পাশে রেখেই গাড়ি থেকে নেমে হতবাক হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল বিভাগের শিক আরিফুল ইসলাম। তিনি কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়েন। এসময় আবদুল আলীম ওই শিকের কাছে এঘটনার কারণ জানতে চান। পরে তিনি দ্রুত আহত ছাত্রী রাহিবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এসময় হাসপাতালে যাওয়ার মত কাউকে পাননি আলীম। একপর্যায়ে তিনি তার মোটরসাইকেল ক্যাম্পাসে অরতি অবস্থায় রেখেই ওই ছাত্রীকে অটোরিকশায় করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দ্রুত চিকিৎসার জন্য তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয় দেন। একথা শুনে হাসপাতালের ডাক্তাররা রাহিবার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।একসময় কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, রাহিবার জন্য ওষুধের প্রয়োজন। তিনি একটি লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে আবদুল আলীমকে ওষুধ আনতে বলেন। এসময় আলীমের কাছে কোন টাকা ছিল না। তাই তিনি নিজের মোবাইল ওষুধের দোকানে বন্ধক রেখে ওষুধ নিয়ে আসেন। পরে আবারো ওই ছাত্রীর এক্স-রেসহ আন্যান্য ব্যবস্থা করেন। এসময় তিনি জানতেন না ওই ছাত্রীর পরিচয় কি। চিকিৎসার পর দুপুর ২টার দিকে ওই ছাত্রী কিছুটা সুস্থ হয়। এসময় সে তাকে জানায় তার বাসা সিলেটের মজুমদারীতে। সে তার মায়ের মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে কথা বলতে বলেন। পরে আবদুল আলীম মোবাইলে ওই ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কথা জানান। ওই ছাত্রীর মা একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিকতা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে আসলে মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নেন যুবক আবদুল আলীম। এসময় ওই শিক্ষক তার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি সুস্থ আছেন এমন আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।আবদুল আলীম আফসোস করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হাসপাতালে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প থেকে কাউকে তিনি পাননি। এমন একটি ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকবানদের এমন আচরণে ক্ষেভ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে শাবি ক্যাম্পাসের এক কিলোতে মেকানিক্যাল বিভাগের প্রধান ড. আরিফুল ইসলাম নামে এক শিকের ড্রাইভিং প্র্যাকটিসে দুইজনের প্রাণ ঝরে গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও রায়েছে। ছাতক ডিগ্রি কলেজের ওই শিকের নাম মো. আতাউর রহমান। এছাড়া নিহত হয়েছেন জগন্নাথপুরের মৃত আবদুল করিমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬০)।

এই সংবাদটি 1,045 বার পড়া হয়েছে